Category Archives: BCS Resources

This category will contain the posts of BCS related Resources!

How to Study For Exams

study-tips_WEB

পরীক্ষার জন্য কিভাবে অধ্যয়ন করবেন ?

পড়াশুনার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় অংশ পরীক্ষা । যেহেতু পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল পেতে আপনাকে অবশ্যই ভালভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে । এইখানে কিছু দক্ষ উপায় বা পদ্ধতি তুলে ধরা হল , আপনার বিশেষ ভাবে অধ্যয়ন ও প্রস্তুতি গ্রহন করার জন্য ।

একটি শিক্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করা :

    ১. প্রথমেই নিশ্চিত করুন আপনার পড়ার রুমটি পরিষ্কার, শান্ত পরিবেশ ও সুশৃঙ্খল কিনা । যদি ঘরে এইরকম পরিবেশ সৃষ্টি করা না যায় তবে পাবলিক লাইব্রেরি সাধারণত একটি ভালো বিকল্প বেবস্থা হতে পারে ।
    ২. সল্প অন্ধকার রুমে কখনই পড়াশুনা করা উচিৎ না । রাতে অবশ্যই লাম্প জ্বালিয়ে এবং দিনের বেলা দরজা ,জানালার পর্দা খুলে দিয়ে পড়তে বসা ভালো । উজ্জ্বল আলো পড়াশুনার এর জন্য সয়াহক এবং এক ধরনের ফোকাস তৈরি হয় । অক্সিজেন পূর্ণ এবং সম্পূর্ণ গোলমাল বিহীন পরিবেশ পড়াশুনার জন্য উপযুক্ত ।

৩. কিছু মানুষ টিভি ওপেন করে পড়াশুনা করতে পছন্দ করে বা অনেক সময় পাশের রুম এ হাল্কা সাউন্ড এ টিভি চলতে থাকে যা কিনা সময়ে সময়ে আপনার মনোযোগ নষ্ট করে দিবে ।তাই পড়ার সময় টিভি ছেড়ে বা কানে হেড ফোন লাগিয়ে গান শুনা অনুচিত এতে করে আপনার অধ্যয়নরত কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে । একই সাথে টিভি আর পড়াতে মনোযোগ দিতে গেলে এইটা আপনার ব্রেন এ চাপ সৃষ্টি করবে এবং পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটাবে ।

    ৪. কখনও কখনও মিউজিক আপনার পড়াশুনার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে । মিউজিক একেক জনের উপর একেক রকম প্রভাব ফেলে । সঙ্গীত আপনাকে প্রেরনা জোগাতে পারে , আপনার পড়াকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে পারে । তবে এর আগে অবশ্যই আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে , আপনার মিউজিক এর সাথে পড়তে ভালো লাগছে নাকি এটি আপনার পড়ায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে । আপনি সঙ্গীত ছাড়া যদি পড়াশুনায় মনোযোগ আনতে না পারেন সেক্ষেত্রে বরং মিউজিক না শুনলেই আপনার পড়ায় ব্যাঘাত ঘটবে । আপনার মনোযোগ মিউজিক এর দিকে চলে যাবে । এই ক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে ।
    • 1) আপনাকে যদি সঙ্গীত শুনতেই হয় তবে কিছু ইন্সট্রুম্যানটাল সঙ্গীত খুঁজে বের করুন যেখানে কোন লিরিক্স থাকবে না যা আপানার পড়ার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাবে ।
      2)আপনি চাইলে ক্লাসিকাল মিউজিক শুনতে পারেন । যা শ্রুতি মধুর এবং আপনার ব্রেন এ চাপ কম ফেলবে ।

topp

    ৫. পরীক্ষার পূর্ব রাতে প্রচুর বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন । গড়ে সাধারনত ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমানো উচিৎ । দীর্ঘায়িত ঘুম এর অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিৎ । দৈনিক পর্যাপ্ত ঘুম কয়েক সপ্তাহের পর্যাপ্ত কর্মক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্যই খুবই প্রয়োজন হতে । কখনই ঘুমের পূর্বে ক্যাফিন, বা অন্য উত্তেজক পদার্থ সেবন করা ঠিক নয় এবং ৫-৬ ঘণ্টার কম ঘুমানো উচিৎ না । এ সকল ওষুধ আপনার ঘুমের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় , যার ফলে আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম হবে না এবং ঘুম থেকে জাগার ফলে আপনি দুর্বলতা অনুভব করবেন ।

৬. হালকা এবং পুষ্টিকর খাবার দ্বারা ব্রেকফাস্ট করুন । চর্বিহীন প্রোটিন, সবজি, ওমেগা -3 ফ্যাটি, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের পূর্ণ সুষম খাবার দ্বারা ব্রেকফাস্ট করার চেষ্টা করুন ।উধাহরন্সরুপ , ডিম , আটার রুটি বা কলা দ্বারা সকালের নাস্তা সেরে নিতে পারেন ।

    ৭. পরীক্ষা শুরুর ১০-১৫ আগে পরীক্ষার হলে গিয়ে হাজির হন । পরীক্ষা শুরু করার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট সময় নিন এবং প্রশ্নটি নিয়ে ভাবুন ।

দক্ষতার সাথে অধ্যয়ন করুন

    ১. পড়াশুনার জন্য উপযুক্ত সময় বেঁছে নিন । ক্লান্তি নিয়েই কখনই পড়াশুনা করতে বসবেন না । রাত না জেগে অল্প পড়াশুনা করে ভালো একটা ঘুম দেয়া এবং সকাল সকাল পড়তে বসা উত্তম ।

২. যত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসা যায় ততই ভালো । কখনই ঠেসে পরবেন না ,এতে করে কখনই কিছু মনে রাখতে পারবেন না । সত্যি বলতে ,আপনি কম কিছুই এইভাবে ধরে রাখতে পারবেন । বরং এইটা সত্য আপনি যদি একই বিষয় বার বার একাধিক বার পরেন তাহলে সেটা অবশ্যই বেশি মনে থাকে । এইটা সবচাইতে উত্তম উপায় ইতিহাস বা সাধারণ জ্ঞান এর মত বিষয় মনে রাখার । যখনই পড়ার সুযোগ পাবেন সময় নষ্ট করবেন না , পড়তে বসে জাবেন , কখনই মনে এই প্রশ্ন আনবেন না যে আপনার পড়তে ইচ্চা করছে না বা আপনি ইচ্ছুক না ।

৩. নিজের পছন্দের স্টাইল এ পড়াশুনা করুন । আপনি যদি ভিজুয়ালভাবে পড়াশুনা করতে পছন্দ করেন সে ক্ষেত্রে ছবির মাধ্যমে আপনি পড়তে পারেন । আপনি যদি শ্রবণ এর মাধ্যমে পড়তে পছন্দ করেন সে ক্ষেত্রে নিজের নোট রেকর্ড করে সেটা বার বার আবৃতি এর মাধ্যমে পাঠ করতে পারেন । আর আপনি যদি শারীরিক অঙ্গ পতঙ্গ ব্যাবহার করতে ভালোবাসেন সে ক্ষেত্রে হাত নাড়াচাড়া করে পড়তে পারেন এতে করে সহজেই পড়া মনে থাকে ।

    ৪. একেক বিষয়ের জন্য একেক রকম প্রস্তুতি নেয়া উচিৎ । যখন আপনি ম্যাথ করবেন তখন ইতিহাস এর মত শুধু পড়ে গেলে চলবে না । মনে রাখতে হবে আপনি এখন মেথ করছেন এবং সমস্যা গুলো নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে এবং সেই সাথে সল্ভ করতে হবে । মনে রাখবেন আপনি যদি পরীক্ষার পূর্বে কোন ম্যাথ সঠিকভাবে সল্ভ করতে না পারেন তাহলে পরীক্ষার সময় ও তা কখনই সল্ভ করতে পারবেন না । কোন বিষয়ের জন্য কি রকম সময় লাগছে হিসাব তা রাখা জরুরী এর মাধ্যমে আপনি নিজেকে যাচাই করতে পারবেন ।
    ৫. অধ্যয়ন এর পূর্বে আপনার শিক্ষক এর কথা চিন্তা করুন । নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন কোন বিষয়গুলোর উপর শিক্ষক বেশি গুরত্ত দিতেন এবং প্রশ্ন করতেন । এতে করে আপনার সুবিধা হবে ,আপনি বুঝতে পারবেন কোন বিষয়ের উপর আপনাকে বেশি জোর দিতে হবে এবং কোন বিষয় গুলো আপনার জানা নেই , জানতে হবে । ভালো করে স্মরণ করুন কোন ট্রিকি প্রশ্ন বা মূল্যবান বিষয় সম্পর্কে শিক্ষক আভাস দিয়েছে । এইটা আপনাকে সাহায্য করবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর ফোকাস হতে ।
    ৬. কারো সাহায্য নিতে পারেন । আপনার বন্ধু-বান্ধব , পরিবার কিংবা শিক্ষক এর কাছ থেকে আপনি যে বিষয়ে দুর্বল সে বিষয়ে সাহায্য নিতে পারেন । যদি আপনার বুঝতে অসুবিধা হয় কার কাছে কীভাবে সাহায্য চাইবেন ভয়ের কোন কারণ নেই । আপনার শিক্ষক এর কাছে ,পুরো বিষয়টা বিশদভাবে বর্ণনা করুন শিক্ষক অবশ্যই আপনাকে সাহায্য করবে এবং সব সময় মনে রাখবেন শিক্ষক যা বলে তা যদি আপনার বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে বার বার তাকে জিজ্ঞাস করে বিষয়টা পরিস্কার হয়ে নিন । শিক্ষক সানন্দে আপনাকে সাহায্য করবে।

study-tips-1-630x315
৭. ক্লাস এ খুবই মনোযোগের সাথে অধ্যায়ন করেন , মনে রাখবেন কখনই যেন ক্লাস এ যেন অমনোযোগী না হয়ে পরেন এতে করে আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মিস করতে পারেন । যেমন শিক্ষক ক্লাস এ পড়ানোর সময় অনেক ক্লু বা টপিক সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন । আপনি যত বেশি মনোযোগের সাথে ক্লাস থেকে তথ্য নিয়ে জেতে পারবেন ঠিক তত কম আপনাকে বাসায় পড়তে হবে ।

গুছিয়ে পড়াশুনা করুন

    ১. পড়াশুনা শুরু করার পূর্বে যতটা সম্বব নিজেকে রিলেক্স রাখার চেষ্টা করুন
      ২. পড়া শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনি কোন কোন বিষয়গুলো নিয়ে পরবেন সেই সব অবজেক্টিভ এর উপর ভালো একটা ফোকাস থাকা দরকার ।

 

    আপনি কি কাজ করা সম্বব মনস্থ করুন । যেমন – আপনি একটা টার্গেট ঠিক করুন এক ঘণ্টায় কতটুকু পরবেন । এই লক্ষ্য আপনার মাইন্ড কে সচল রাখতে সাহায্য করবে । তবে হ্যাঁ এইটা অবশ্যই নির্ভর করবে আপনার শক্তি এবং সামরথের উপর । সর্বদা , এমন গোল সেট করা উচিৎ যা আপনার পক্ষে সম্বব এবং বাস্তবসম্মত ।
    ৩. সর্বদা একটা প্লান করে সামনে আগানো উচিৎ । মনে রাখবেন প্লান কে অবশ্যই সাকসেসফুল করতে হবে । যদি ৫ টা অংকের মধ্যে ২ টা অংক সহজ এবং করতে সময় কম লাগে তাহলে আগে সহজগুলো করে ফেলুন এতে করে সময় বাচবে এবং কঠিন অংকগুলোর জন্য আপনি বেশি সময় পাবেন । মাঝে মাঝে কিছু ছোট ট্রিক আপনার প্লান কে দ্রুত সম্পন করতে সাহায্য করবে ।
    ৪. একটা সময় ঠিক করে নিন যেন যথা সময়ে আপনি আপনার নির্বাচিত সকল টপিক শেষ করতে পারেন ।মনে রাখবেন, প্রতিদিন বিরতিহীন পড়াশুনা না করে ফাঁকে কিছুটা বিরতি নিন এতে করে আপনার চোখ এবং মাইন্ড এর এক্সসারসাইয হবে , এবং সর্বদা যথা সময় পড়তে বসুন ও পড়ার সময় কোন আজেবাজে চিন্তা মাথায় আনবেন না ।
    • 1) বিষয়ের উপর কিছু গবেষণা করবেন । যেই যেই টপিক পরীক্ষায় থাকবে সেইগুলার উপর ভালো একটা ধারন রাখবেন , যেমন রচনা,মাল্টিপল প্রশ্ন , শর্ট প্রস্নের উত্রর কীভাবে দিতে হয় খুব ভালো করে জেনে নিবেন । আপনি আপনার শিক্ষকের কাছ থেকে এই সকল টপিক এর মানবন্তন , কীভাবে উত্তর দিতে হবে এবং ফরম্যাট জেনে নিতে পারেন ।
      2) আপনি নিজে নিজেই একটা নোট তৈরি করে নিতে পারেন , নিজের সুবিধার জন্য নোট এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো টুকে রাখতে পারেন । এই নোট শুধু আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর উপর ফোকাস করতে সাহায্য করবে না সেই সাথে পড়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে । পড়াকে অনেক সহজ করবে । তবে নোট এর প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়া ঠিক হবে না ।

studytips
নিজেকে উদীপ্ত রাখুন

    • ১. টেক ব্রেক , কিছু সময়ের জন্য মজাদার কিছু করার চেষ্টা করুন । একটানা পরলে একঘেয়েমি চলে আসবে । যখন রিলাক্স থাকবেন তখন পড়া রিভাইজ করার চেষ্টা করুন । সতর্ক থাকবেন , বিরতিহীন ভাবে পড়ে যাবেন না এতে করে পড়ার প্রতি বিতিস্না চলে আসতে পারে। সাধারনত ২০-৩০ মিনিট পড়ার ফাঁকে ৫ মিনিট বিরতি নেয়া উত্তম মেথড ।
      ২. ইতিবাচক চিন্তা করুন এবং কঠোর পরিশ্রম করুন । কখনই চিন্তা করবেন না যে আপনি পরীক্ষায় পাস করতে পারবেন না । সব সময় পজিটিভ চিন্তা করুন এবং আপনি যদি নিজেকে বলুন পারবেন তাহলে অবশ্যই পারবেন । যদি বলুন পারবেন না তাহলে কখনই পারবেন না । নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন । আত্মবিশ্বাস টা খুব বেশি জরুরী । এর মানে এই নয় যে আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে । আপনাকে পড়তে হবে সেই সাথে নিজের মধ্যে আস্থা রাখতে হবে । আস্থা এর মাধ্যমে যে কোন সাফল্য সহজেই পাওয়া যায় ।
      ৩. অপরের সাথে মিলেমিশে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে । সাপ্তাহে একদিন বন্ধুদের সাথে বসে নিজের নোট আর অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে । এতে করে অন্যরা সহজেই আপনার কোথায় ঘাটতি রয়েছে টা সহজেই বলে দিতে পারবে এবং আরও অনেক তথ্য দিয়ে আপনাকে সাহায্য করতে পারবে । আপনি যখন কারো কাছে কোন সাহায্য চাইবেন তখন অবশ্যই কোন হাসি তামাসা বা রসিকতা করবেন না । মনোযোগ দিয়ে জেনে নিবেন যেখানে আপনার দুর্বলতা আছে ।